প্রেসিডেন্টগুলি হাসিতেছে, কেবলই হাসিতেছে
"…দুনিয়ার সকল প্রেসিডেন্ট উঠিয়া আসিয়াছে
তাহাদের নিজ নিজ প্রাসাদের ছাদে
আর দেখিতেছে শূন্যের উপর চলমান তোমাদের সাইকেল
তাহারা এখন হাসিবে কি কাঁদিবে বুঝিয়া উঠিতে পারিতেছে না
একবার সবাই মিলিয়া হাত নাড়িয়া দাও উহাদের দিকে
দ্যাখো দ্যাখো, উহারাও সাইকেল আনাইয়া লইতেছে
একবার শূন্যে উঠিয়া আসিলে, উহারাও ফুর্তিতে খিলখিল করিয়া হাসিবে
ক্ষেপণাস্ত্রগুলি অমনই ভোঁতা হইয়া যাইবে
কামান-বন্দুক-গুলি-গোলা সব বিলকুল বরবাদ!
প্রেসিডেন্টগুলি হাসিতেছে, কেবলই হাসিতেছে ..."
এটি সম্পূর্ণ কবিতা নয়। খণ্ড অংশ। খুবই অদ্ভুত একটা ব্যাপার আছে শেষ লাইনটাতে। ফুলগুলি, জলগুলি নয়, এমনকি নর-নারীগুলিও নয়, প্রেসিডেন্টগুলি! হাসিতেছে! প্রেসিডেন্টের হাসি আমরা দেখেছি টিভিতে। প্রেসিডেন্টের হাসি বললেই একদা মধ্যপ্রাচ্যের আগুনের খবরের মাঝে জর্জ বুশের হাসি মনে পড়ে। তার বছর কয়েক আগে ইদি আমিনের হাসি দেখেছে বিশ্ব। পিনোশের হাসিও সুন্দর ছিল। আরো আরো প্রেসিডেন্ট সকলের হাসি আমরা দেখে আসছি। এখন যখন এই কবিতাগুলি পড়ছি, এই লাইনটিতে এসে থামছি, তখন একই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট নেতানিয়াহুর অট্ট হাসিতে ভেঙে পড়ছে গাজার ঘরবাড়িগুলি, আর একেবারে ঘরের পাশেই শেখ হাসিনা হাসতে হাসতে বিষম খাচ্ছে খুব!
… যখন আমরা এই পৃথিবীর আকাশে এক জলফড়িংয়ের পিছু পিছু শূন্যে দুহাত মেলে সাইকেল চালিয়ে চলেছি। আর নিচে যুদ্ধ বিদ্ধস্ত দেশ! আর প্রেসিডেন্টগুলি ছাদে উঠে দেখছে এই দৃশ্য। প্রেসিডেন্টগুলি হাসিতেছে।
অতিকথা। যা কিছু কথার অধিক, তাই। কী কথা? কেমন কাহিনি? যে কাহিনির ভিতর জল্ফড়িং একটি চরিত্র, জলে এক পা ডুবাইয়া বক একটি চরিত্র, মানস সরোবর থেকে উড্ডিন এক সাধক হাঁস একটি চরিত্র। তারা কী করছে? তারা গল্প বলছে, কাহিনি বলছে। তাদের কাহিনির ভিতর একটা পৃথিবী, পৃথিবীর মানুষ, তাদের সভ্যতা, যুদ্ধ, বাণিজ্য, আর সবটুকু নিজের অধিকারে নিয়ে এক পেল্লায় সভ্যতার গল্প!
কেমন সেই সভ্যতা?
"জীবাশ্ম কি ভাবিতে পারে! কথার খাতিরে ধরা যাক পারে
একটি ডাইনোসরের জীবাশ্ম
শ্যাওলা-ধরা এক পেল্লায় পাথরখণ্ডের গায়ে লেপটাইয়া, এখন ভাবিতেছে –
আমাদের হাতে পৃথিবীর ভবিষ্যৎ কী-এমন হুমকির মুখে ছিল?
সমুদ্রের ভিতর উল্কাপাত হইয়া সেই যে ভূগর্ভ ফাটিয়া গেল
লাভা উদ্গীরণ হইয়া সেই যে ধূমে-ভস্মে আসমান ঢাকিয়া গেল
সেই যে তাহার পর বিপুল অন্ধকার নামিয়া আসিল
আর প্রবল ঠাণ্ডায় সেই যে আমরা বিলুপ্ত হইয়া গেলাম –
ইহাতেই নাকি সব স্তন্যপায়ীদের বাড়বাড়ন্ত হইল!
ফলত এই যে ক্রমে মানুষ আসিল
আসিল তাহার দুনিয়াজোড়া মাস্তানি
আর এই যে আবহমণ্ডল ক্রমেই গরম হইয়া যাইতেছে
এই যে পৃথিবীর বেশির ভাগ অচিরেই নোনা জলে ডুবিয়া যাইবে
আর বাকি সবাইকে এই নরককুণ্ডে ফেলিয়া এই যে
সামান্য কিছু মানুষ পলাইবে গ্রহান্তরের দিকে –
আমরা কি ইহাদের হইতেও হিংস্র ছিলাম?
ভাবিতেছে, একটি জীবাশ্ম, ডাইনোসরের
কিন্তু জীবাশ্ম কি ভাবিতে পারে… "
পৃথিবীতে প্রাণ সৃষ্টির পর কোটি কোটি বছরের ব্যাবধানে ঘটে গেছে একে একে পাঁচটি গণ বিলুপ্তি! বিপুল সংখ্যক প্রাণ প্রজাতির বিলুপ্তি। পুণরায় গড়ে উঠেছে অন্য অন্য প্রজাতি সকল। সেই গড়ে ওঠাও কোটি কোটি বছরের সফলতা। পালটে যাওয়া পরিবেশের উপযুক্ত নতুন প্রজাতি সকল। আরো অনেক যুগ পর অবশেষে এসেছে হোমোস্যাপিয়েন্স, মানুষ! তারপর ফের কেটে গেছে বহু যুগ। এখন এই পৃথিবী নাকি ষষ্ঠ গণ বিলুপ্তির মাঝামাঝি এসে দাঁড়িয়েছে। এর আগের আগের বিলুপ্তিগুলি ছিল প্রাকৃতিক। কখনো সমুদ্র-জলের ঘনত্ব, অক্সিজেনের মাত্রার তারতম্য, আবার কখনো বা মহাকাশ থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে উল্কার প্রপাত, ভুকম্প, অগ্নুৎপাত। বিলুপ্তি। ধীরে শান্ত হয়ে এল পৃথিবী। মানুষ দু'পায়ে দাঁড়ানো থেকে অনেকটা পথ হেঁটে ক্ষুদ্র এক মোবাইলের অধীন হল। এবার সেই ষষ্ঠ গণবিলুপ্তি। যার কারণ স্বয়ং এই মানব! এবং তার তথাকথিত সভ্যতা, যার কারণে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে অন্য অন্য বাসিন্দা সকল। ওই মানস সরোবরের হাঁস, ওই জলফড়িং, ওই
বক। যারা নিজেরাই তাদের জবানে বলছে এই কথা সকল। এই কাহিনিগুলি সেই সকল প্রাণের। কবিতাগুলি সেই সকল প্রাণের।
ফ্যাবেল বা উপকথার ঢঙে এই কবিতাগুলি গড়িয়ে যাচ্ছে। সহজ ঢঙে, সাধু বাঙলায় যেন পাতার পর পাতা উপকথাগুলি বুনে চলেছেন কবি। বুড়া হয়ে যাওয়া বাঘ, সে আর শিকার ধরতে পারে না। লোকালয়ে ঢুকে পড়ে মানুষের পোষা গরুটা ছাগলটা ধরে ধরে খায়। তারপর মানুষের ঘাড়ে থাবা পড়তেই কাহিনির গতি গেল ঘুরে! মানুষ মহা পরাক্রমে তাকে ধরে বেঁধে ব্যাঘ্রপ্রকল্পে তোফা ব্যাবস্থা করে দিল। এখন বাঘের আর খাবার জোগাড়ের চিন্তা নাই। এইভাবে সে টের পেল মানুষের মাহাত্ম্য! কখনো কোথাও আবার কাকদের সভা, বৃদ্ধ কাক বলছে,, “মনে রাখিও, মানুষের উচ্ছিষ্টের দিকে তাকাইয়া বসিয়া থাকিলে চলিবে না…মানুষই এই দুনিয়াকে ভাগ করিয়াছে, আমার একটি প্রস্তাব আছে, যখনই উহাদের কোন্দল করিতে দেখিবে, যে যেখানেই থাক উহাদের মাথায় বিষ্ঠা করিয়া দাও! “ এমন সময় এক মানবশিশুর গুলতি নিঃসৃত গুলি সাঁ করে এসে লাগল তার মাথায়, সে মঞ্চে মুখ থুবড়ে পড়লো। আর উঠলো না! কাকের গল্পটি শেষ হইল! কখনো নাতি পুতি নিয়ে বৃদ্ধা সজারু-দাদী গল্প বলে চলেছেন বহুযুগ ধরে চলে আসা তার পরিবারের বীর সজারুদের কাহিনি। গল্প বলছে এক ফসিল! সে তার পাথর হয়ে যাওয়া ইতিহাস থেকে গল্প বলছে, ভাবছে– কি এমন খারাপ ছিল আমাদের সেই সভ্যতা! অন্তত এই মানব সভ্যতা থেকে কতই বা নিচে ছিল তার অবস্থান?
এখানে এসেই খটকা লাগে। ফসিলের কথা তো কোনো লোককথায় পড়ি নাই! এ তো পৃথিবীর পাথুরে ইতিহাস! লেখাগুলি খুব ধীরে লোককথার আধার থেকে ছড়িয়ে পড়তে থাকে ইতিহাসে, ইতিহাস থেকে ক্রমশ সময়হীন এক শূন্যতার দিকে। জল, মাটি, আগুনের পৃথিবী থেকে তা ক্রমশ রূপান্তরিত হয় জগতের এক বিমূর্ত মুর্তিতে, এবং তা অনায়াসে মহাজগতের দিকে ধাবমান হয়। যেখানে একটি সজনে পাতা হাওয়ায় উড়ে চলেছে।
কিন্তু সজনেপাতার গল্পে আমরা পরে আসব। কারণ সে ইহজগতের নয়। সেখানে গেলে আমাদের ফিরে আসতে কিঞ্চিৎ অসুবিধা হবে। এখন এই ফসিলের প্রশ্নটি আমাদের ভাবিয়ে তুলেছে। ‘'মানব সভ্যতা থেকে কতই বা নিচে ছিল তার অবস্থান?’’
এই অবস্থানের প্রশ্নে সদ্য একটা ঘটনা ঘটে গেছে।
এই এখন দেখছি একটা খবর ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম, সমাজ মাধ্যম আর রিলের মধ্যে দিয়ে দেখতে পাচ্ছি একটা হাতি ঝোপ ঝাড় ভেদ করে দৌড়াচ্ছে, পাহাড় থেকে গড়িয়ে পড়া কালো বিশালাকার পাথরের চাঁইয়ের মতো এগিয়ে আসছে জঙ্গল লণ্ডভণ্ড করে! রিলের মধ্যে থেকে একটা পুরুষ কণ্ঠস্বর ঝাড়্গ্রাম অঞ্চলের ভাষায় চিৎকার করে যাচ্ছে —- হুলা মানে নাই, হুলা মানে নাই, একটাও হুলা মানে নাই দেকচু!
‘হুলা’ হল বর্শা, বা বল্লম বিশেষ, যার তীব্র ফলার আগায় মশালের আগুন জ্বালিয়ে সুচালো ফলাকে করে তোলা হয় লাল উত্তপ্ত! যা সহজেই গেঁথে যায় হাতির শরীরে। সেই মশাল জ্বলা হুলাকেও গ্রাহ্য করছে না হাতিটি। সে রেগে গিয়ে প্রতি আক্রমণ করছে, যা বিস্মিত করেছে রিলের ভিতরের ওই অদেখা মানুষটিকে। মানুষটি জানে না হাতিটির পেটে রয়েছে তার সন্তান। সে মরিয়া। এখন সে কুনু হুলাকেই মানবেক নাই। অন্তত মৃত্যু অব্দি। হাতিটির মৃত্যু হল।
এই হল উপকথা। হাতির গল্প এই বইটিতে নাই। তবু মা আর সন্তানের গল্প আছে। যেমন ওই সজিনা পাতা আর তার মা-গাছ। আরো আছে। সজারু পরিবারের গল্পটিতে আছে। কী আছে সেখানে? সেখানে কাহিনির মধ্যে আছে অনেকগুলি ইতিহাসসূত্র। যা একাধারে সজারুপরিবারের, আবার একই সঙ্গে মানুষের যুদ্ধের ইতিহাসও। সজারু পরিবারের সাহসী সদস্যরা গর্ত থেকে মুখ বার করে উঁকি মারে—-
"…সেসব নাকি দাদির কোন্ বড়মা নিজের চক্ষে দেখিয়াছিল একবার
শন শন করিয়া তির ছুঁড়িতেছে কিষাণেরা
শজারুর গোষ্ঠীশুদ্ধ সবাই তো গিয়া মাটির নিচে লুকাইয়াছে
বড়মা ছিল খুব সাহসী। গর্ত হইতে মুখ বাহির করিয়া দ্যাখে –
তিরের ঘায়ে এক বেটা সেপাই মরিয়া পড়িয়া আছে খেতের উপর
তাহার পর তো শত শত সেপাই আসিয়া ঘিরিয়া ফেলিল মাঠঘাট
আর সে কী লড়াই!
একদিকে ফটাফট বন্দুক চলিতেছে, অন্যদিকে শন শন তির
আরে বাবা, তিরধনুক দিয়া শজারুই মারা যায়
বন্দুকবাজদের সাথে লড়া যায় থোড়াই?
দশ-বারো জন কিষাণ-কিষাণীর লাশ পড়িয়া গেল ভুঞে
তাহাদের এক কিষাণীর পেটে ছিল বাচ্চা
এসব কি আর আজিকার কাহিনি রে, সেই কোন্ ছোটকালে শুনিয়াছিলাম
তাহার পর? তাহার পর আর কী, আমার গল্পটি ফুরাল, নটেগাছটি মুড়াল
আমিও দুইদিন বাদে চক্ষু বুজিব, তোরাও এইসব ভুলিয়া যাইবি ..."
এই কাহিনি, অর্থাৎ কবিতার প্রথম অংশে সজারু-দাদী বলেছিল, ‘‘এ হইল তরাই অঞ্চল! তখনও এসব জায়গা বনজঙ্গলে ভরা’’। তরাই, হিমালয়ের পাদদেশ। আমাদের উত্তরবঙ্গ। জল আর জমির আধিকার। এক সেপাইয়ের লাশ। সারি সারি কিষাণ-কিষাণীর লাশ! কিছু কি মনে পড়ে হে ইতিহাসসূত্র? মনে পড়লেও সেই অজানা পোয়াতি কিষানীর কথা আর মনে নাই কারো। সে এখন কবির একলা রচিত উপকথায় এসে শুয়ে আছে। তাঁর সামনে একটা অন্ধকার মাঠ। তার ওইপারে এক সজিনা গাছ। যেন কাছের হয়েও বহুদূরের সে…
… ওই সেই সজিনা গাছ, যার কথা কিছু আগে বলব বলেও ছেড়ে এসেছিলাম। কারণ তখন আমরা ফসিলের ভিতরে ছিলাম। মাটি, পৃথিবী, জল ও আগুনের অতিকথা থেকে এবার আমরা মহাজগতের দিকে এসে পড়েছি।
কিন্তু সজনেপাতা কিকরে বা মহাজাগতিক হয়ে উঠবে? সে তো আমাদের উঠানের তুচ্ছ গাছ এক। শুঁয়োপোকায় ভরে থাকে। বছরে একবার মাত্র যখন তার ফুল ফোটে, সে মহীয়সী হয়ে ওঠে, সারা শরীরে তার থোকা থোকা বসন্ত আসে। শুঁয়োপোকাগুলি প্রজাপতি হয়ে ওড়ে আমাদের বাগানে। অবশ্য তারপর সেই ফুল তো ভাতের পাতে বড়া হয়ে আসে, দুদিনের গরবিনীর ওখানেই ইতি। কিন্তু তারও মহাজাগতিক এক গল্প রয়েছে! অন্তত এই বইয়ের ভিতর যখন হাওয়ায় তার পাতা ওড়ে—
একটি পাতা উড়তে উড়তে উঠে আসে এক টিলার উপর। আর দেখে, নিচে একটি ঘুমন্ত পৃথিবী, আরও উপরে একটি জায়মান আকাশ। চন্দ্রমা এখনো উদিত হন নাই, গ্রহ তারকাগুলি সবে সাজানো হচ্ছে। সজিনা পাতা ভাবলো, আসলেই বুঝি এটি কোনো রাত্রি নয়, এক মহাজাগতিক মরিচীকা মাত্র! হঠাৎ ঘোর ভেঙে তার মায়ের কাছে ফিরতে ইচ্ছে করল। মা! উঠোনের সেই সজনে গাছটি কেমন এক লহমায় মা হয়ে উঠলো, আর তারই নাড়ি ছেঁড়া সন্তান ওই উড়ে যাওয়া পাতাটি। সে চেষ্টা করল টিলাশীর্ষ থেকে পৃথিবীতে নেমে আসতে, হাওয়াহীন স্তব্ধ মহাশূন্যে উড়তে না পেরে সে বুকে হেঁটে, হামা দিয়ে কোনোরকমে যখন পৃথিবীতে এসে পৌঁছায়, দেখে সজিনা গাছটিই আর নাই!
সে কি বহুদিন আগে ছেড়ে চলে গিয়েছিল মাকে? পৃথিবীতে কি অনেক অনেক যুগ পার হয়ে গেছে তারপর?
তারপর যেটুকু আছে, তা হল কাব্য। এতক্ষণ যেটুকু বলা হল তা কেবল কাহিনি। পাঠক কাব্যটুকু ব্যাখ্যার ক্ষমতা এই আলোচকের নাই। সেটুকু ব্যাখা করা অপরাধও বটে। তাই কবিতাটির শেষ অংশটি এখানে রইল। দুধ আর পানির বিষয়টি আপনিই পরখ করুন।
"…অনেক কসরত করিয়া কোনওরকমে যখন সে আবার
নিচে নামিয়া আসিতে পারিল, সজিনা গাছটিই নাই
ধুস, হইতে পারে নাকি তাহা? এও এক মরজাগতিক মরীচিকা তবে!
মরীচিকার মন্ত্র রচনা করিবে বলিয়া সজিনা পাতা এবার যেদিকে চলিল
লোকে এখনও তাহার নাম স্থির করিয়া উঠিতে পারে নাই ..."
তাহলে অতিকথা মানে কী? কথার অতীত সেই কাব্য? লোকে যার নাম এখনো স্থির করিতে পারে নাই!
মানুষের, প্রকৃতির, জঙ্গলের, আদি থেকে আজ অব্দি প্রবাহিত সেই সকল জীব জন্তু প্রাণী মানুষ ফসিল নিয়ে এ হল সেই অতিকথার সম্মেলন। যা আজ সারা বিশ্বজুড়ে তত্তকথা আর সেমিনারে সেমিনারে ভারাক্রান্ত হতে হতে নিজেই ঘুমিয়ে পড়েছে চাটাইয়ের উপর। ফাঁকা রঙ্গমঞ্চের এক কোনে তেল ফুরিয়ে আসা একটা কুপি তখনও জ্বলছে। কবি একা ঘুমন্তকে জাগিয়ে রাখছে ‘অতিকথা’র ভিতরে…
(কবি গৌতম চৌধুরী প্রণীত ‘'অতিকথা” কাব্যগ্রন্থটি পাঠ পরবর্তী একটি রচনা)
–--কৌশিক বাজারী।
